ঢাকা মঙ্গলবার
১৬ জুলাই ২০২৪
১৭ মার্চ ২০২৪

বড়দিনে নিষ্প্রাণ যিশু খ্রিস্টের জন্মস্থান বেথেলহাম, নেই ক্রিসমাস ট্রি’


ডেস্ক রিপোর্ট
234

প্রকাশিত: ২৫ ডিসেম্বর ২০২৩ | ০৩:১২:৪০ পিএম
বড়দিনে নিষ্প্রাণ যিশু খ্রিস্টের জন্মস্থান বেথেলহাম, নেই ক্রিসমাস ট্রি’ ফাইল-ফটো



গাজায় যুদ্ধের কারণে বড়দিনেও নিষ্প্রাণ-বর্ণহীন যিশু খ্রিস্টের জন্মস্থান ফিলিস্তিনের বেথেলহাম শহর। প্রতিবছর দিনটি উদযাপনে বর্ণিল আয়োজন থাকলেও এবার চার্চ অব দ্য নেটিভিটিতে নেই কোনো উৎসব আমেজ, আলোকসজ্জা, এমনকি ক্রিসমাস ট্রিও।
শহরের কেন্দ্রস্থল ম্যাঞ্জার স্কয়ারের ঐতিহ্যবাহী ক্রিসমাস ট্রি এবার নেই। নেই ক্রিসমাস ক্যারল ও বড়দিন উপলক্ষে কোনো মেলা। বড়দিনের কুচকাওয়াজ ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানও বাতিল করা হয়েছে। এ বছর আয়োজকরা বড়দিনের অধ্যাত্মিক বিষয়গুলো পালনের কথা বললেও প্রথাগত উদযাপন ভুলে যেতে বলেছেন।
এ বছরের বড়দিন উপলক্ষে কয়েক মাস আগেই বেথেলহামের বাড়িঘর রাস্তাঘাট সাজানো হয়েছিল। তবে এসব এখন পরিত্যক্ত। চার্চ অব দ্য নেটিভিটির সামনে ঐতিহ্যবাহী সাজসজ্জার জায়গায় ২০২৩ সালের বড়দিনে এমন দৃশ্য তৈরি করেছে যাতে মনে হচ্ছে গাজার ধ্বংসস্তূপের মধ্যে যিশুর পৃথিবীতে প্রবেশের ঘটনা।
৭ অক্টোবর ফিলিস্তিনই স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাসের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে গাজা ভূখণ্ডে নির্মম হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েলের, এর জেরে পশ্চিম তীরেও সহিংসতা বেড়েছে; এই পরিস্থিতিতে বেথেলহেমে কেউ যাচ্ছেনা বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। 
“আমাদের কোনো অতিথি নেই, একজনও না,” বলেন আলেকজান্ডার হোটেলের মালিক জোয়ি কানাভাটি, তার পরিবার চার প্রজন্ম ধরে বেথেলহেমে বসবাস ও ব্যবসা করে আসছে।
তিনি বলেন, “যেকোনো সময়ের তুলনায় এটিই সবচেয়ে খারাপ ক্রিসমাস। বড়দিনের মধ্যেও বেথেলহেম স্তব্ধ হয়ে আছে। কোনো ক্রিসমাস ট্রি নেই, কোনো আনন্দ নেই, বড়দিন ঘিরে কোনো প্রাণচাঞ্চল্য নেই।”
জেরুজালেমের দক্ষিণপ্রান্তে অবস্থিত বেথেলহেম পুরো বিশ্ব থেকে আগত পর্যটক ও পুণ্যার্থীদের থেকে আসা আয়ের ওপর নির্ভরশীল, শহরটির কর্মচাঞ্চল্য মূলত তাদের ঘিরেই। পুণ্যার্থী ও পর্যটকরা এখানকার নেটিভিটি গির্জা দেখতে আসেন, যিশু যেখানে জন্মেছিলেন গির্জাটি সেখানেই দাঁড়িয়ে আছে বলে বিশ্বাস খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের।  
কানাভাটি জানান, ৭ অক্টোবরের আগে বড়দিনের জন্য তার হোটেলের সব রুম আগাম ভাড়া হয়ে গিয়েছিল, অতিরিক্ত যারা রুমের খোঁজ করছিলেন তাদের জন্য শহরে থাকার বিকল্প ব্যবস্থা করার চেষ্টায় ছিলেন তিনি। 
“প্রতি রাতে এখানে অন্তত ১২০ জন ডিনার করতো। ভিড় লেগেই থাকতো। লোকজন, হৈচৈ। এখন কিছু নেই, শূন্য। ক্রিসমাস ব্রেকফাস্ট নেই, ক্রিসমাস ডিনার নেই, কোনো ক্রিসমাস বুফেও নেই,” বলেন তিনি।


আরও পড়ুন: