ঢাকা মঙ্গলবার
২৫ জুন ২০২৪
০৮ মে ২০২৪

রাজধানীতেও রেমালের প্রভাব, দমকা বাতাসের সঙ্গে ঝরছে বৃষ্টি


ডেস্ক রিপোর্ট
66

প্রকাশিত: ২৭ মে ২০২৪ | ১০:০৫:৩৩ এএম
রাজধানীতেও রেমালের প্রভাব, দমকা বাতাসের সঙ্গে ঝরছে বৃষ্টি ফাইল-ফটো



বাংলাদেশের উপকূল অতিক্রম শেষ করেছে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট প্রবল ঘূর্ণিঝড় রেমালের কেন্দ্র। সারাদেশের ন্যায় এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব পড়েছে রাজধানীতেও। ঘূর্ণিঝডড়ের প্রভাবে ঢাকায় দমকা বাতাসের সঙ্গে ঝরছে বৃষ্টি। সোমবার ভোর থেকেই এই অবস্থা শুরু হয়। 

সোমবার ভোর থেকেই রাজধানীজুড়ে থেমে থেমে আসা দমকা বাতাসের সঙ্গে হালকা থেকে মাঝারি ধরণের বৃষ্টি হচ্ছে। 

এছাড়া ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকা থেকে ঝড়ো বাতাস ও বৃষ্টিপাতের খবর পাওয়া যাচ্ছে। 
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট প্রবল ঘূর্ণিঝড় রেমাল রবিবার রাতে উপকূলে আঘাত হেনেছে। রাত আটটার দিকে ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্র মোংলার দক্ষিণ-পশ্চিম দিক দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ উপকূল ও বাংলাদেশের খেপুপাড়া উপকূল অতিক্রম শুরু করে। এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, পটুয়াখালী, বরগুনা, ভোলাসহ উপকূলের বিভিন্ন জেলায় ঝড়ো হাওয়া বয়ে যায়। বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৯০ থেকে ১২০ কিলোমিটার। এর প্রভাবে বিভিন্ন এলাকায় জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়।

বৈরী আবহাওয়ার কারণে রবিবার বিকাল ও সন্ধ্যা থেকে বাগেরহাট, ভোলা, পটুয়াখালীসহ উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। 

এদিকে, রাতভর উপকূল ও এর আশপাশে তাণ্ডব চালিয়ে ঘূর্ণিঝড় রেমাল এখন শক্তি হারাতে শুরু করছে বলে জানা গেছে।
 
আবহাওয়া তথ্যমতে, সাতক্ষীরা রাতভর বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়া বয়ে যায়। জলোচ্ছ্বাসে কয়েকটি এলাকায় বাঁধ ভেঙে যায়। বিষখালী-সন্ধ্যা, পায়রা, আন্ধারমানিক, গলাচিপা ও তেঁতুলিয়া নদীর উপচেপড়া পানিতে বরগুনা ও পটুয়াখালীর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। কলাপাড়া, খেপুপাড়া ও কুয়াকাটায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বরগুনায় তলিয়ে গেছে ২৭ গ্রাম, ভেঙে গেছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ।

বলেশ্বর নদীর পানিতে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বাগেরহাটের বলেশ্বর, পানগুছি-খাসিয়াখালী এবং দড়াটানা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে। শরণখোলা ও মোড়লগঞ্জের বেশ কিছু এলাকা প্লাবিত।
 
সদর হাসপাতালের ভেতরে পানি ঢুকেছে। বাগেরহাটে পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছেন। মোংলার  শ্যালা নদী ও পশুর নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে। রাস্তা ভেঙে জয়মুনি এলাকায় পানি ঢুকে পড়েছে।
 
কক্সবাজারে জোয়ারে প্লাবিত ২১ গ্রাম। নোয়াখালীর হাতিয়া বেশকিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দি হাজারো মানুষ। খুলনার উপকূলীয় উপজেলা দাকোপ, কয়রা, পাইকগাছা ও বটিয়াঘাটায়ও ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে রেমাল। তলিয়ে গেছে সুন্দরবনের পর্যটনকেন্দ্র। ভোলার চর কুকরিমুকরিসহ বেশকিছু উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
 
অপরদিকে  রেমালের প্রভাবে মানিকগঞ্জে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি বন্ধ রয়েছে। শরীয়তপুর-চাঁদপুর নৌপথে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে।


আরও পড়ুন: