ঢাকা শনিবার
১৩ জুলাই ২০২৪
০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩

বাজারে পাওয়া মিনিকেট, নাজিরশাইল সহ অনেক চালের ধানই চাষ হয় না মাঠে


ডেস্ক রিপোর্ট
199

প্রকাশিত: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২২ | ০১:০৯:২৩ পিএম
বাজারে পাওয়া মিনিকেট, নাজিরশাইল সহ অনেক চালের ধানই চাষ হয় না মাঠে ফাইল-ফটো



শুধু মোটা-সরুর পার্থক্যের কারণে একই নামের চাল বিক্রি হয় কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশি দামে। এর মধ্যে আবার বিশেষজ্ঞদের দাবি, শুধু মিনিকেট নয়, নাজিরশাইলসহ বাজারে পাওয়া অনেক চালের ধানই চাষ হয় না ক্ষেতে। বিশেষ স্বার্থে এসব চাল বানানো হয় মিল-কারখানায়।

কৃষি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মো. সদরুল আমিন বলেন, শুধু চালের মুখটাকে চিকন করে আরেকটা বানানোই নয়, দেশে চাষ করা হাইব্রিড চালকেও ঘষামাজা করা হয়। তারপর সেটাকে মিনিকেট বলে দ্বিগুণ দামে বিক্রি করা হয়। এ ছাড়া নাজিরশাইলসহ এমন আরও অনেক নাম আছে, যেগুলোর নামে কোনো চাল নেই। এসব নাম ব্যবসায়ীদের দেয়া।

বাজারে মোটা দামে সরু যে নাজিরশাইল চাল দেখা যায়, তার আসলেই কোনো জাত নেই। এমন দাবি করে একটি করপোরেট প্রতিষ্ঠান বলছে, ভোক্তার চাহিদা পূরণে বিশেষ কায়দায় পেট সাদা এই চাল বানানো হয় মিলে। তবে তাদের দাবি, দেশের উত্তর-দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে চাষ হয় মিনিকেট নামে সবচেয়ে বিতর্কিত চালের ধান।

প্রাণ গ্রুপের অপারেশন ম্যানেজার মো. নিয়াজ মোর্শেদ বলেন, মোটা চাল কেটে চিকন করার কোনো মেশিন এখনো উদ্ভাবিত হয়নি। বাংলাদেশ রাইস রিচার্স ইনস্টিটিউটের উদ্ভাবিত যে ধানগুলো আছে, সেখানে মিনিকেট কোনো উদ্ভাবিত জাত নয়। সাতক্ষীরা, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া ও যশোর থেকে শুরু করে দিনাজপুর পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের সব জেলায় মিনিকেট ধান চাষ হয়। ভোক্তা যেমন পণ্য চায়, বাজারে তেমন পণ্যই থাকবে।

প্রাণ গ্রুপের এসসিএম সিনিয়র ম্যানেজার খন্দকার কামরুল ইসলাম বলেন, নাজিরশাইল কোনো ধানের জাত নয়। এটা ব্র্যান্ড নেম। স্বর্ণা ফাইভ, মিনিকেট, কাটারি, চিনিগুঁড়া সবকিছু থেকে নাজিরশাইল বানানো সম্ভব।

চালের এই নাম বিতর্কের অবসান হোক দ্রুত, এমনটাই চায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর। কারণ, শুধু নামের কারণে যেন বেশি দামে কিনতে না হয় কম দামের চাল।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, ‘নাম দিয়েই চালের দাম বাড়ানো হচ্ছে। আগে আমরা বলতাম, নামে কী আসে যায়। কিন্তু এখন দেখছি, নামে অনেক কিছুই আসে যায়। এ বিষয়টি আসলে সমাধান করা দরকার।’

ধান-চালের এই বিতর্ক ঠিক কতদিনে শেষ হবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে এই বাজার বিতর্কে এটা বোঝা গেল– কী নামে কোন মানের আর কত দামের চাল বাজারে চান ক্রেতারা, তার একটি বড় অংশই আসলে নির্ধারণ করে দেন স্বয়ং তারাই।


আরও পড়ুন: