ঢাকা শুক্রবার
১৯ জুলাই ২০২৪
২৭ নভেম্বর ২০২৩

জিডিপির ৫০% পণ্য–সেবায় ভ্যাট নেই


ডেস্ক রিপোর্ট
361

প্রকাশিত: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ | ১০:০২:০৬ এএম
জিডিপির ৫০% পণ্য–সেবায় ভ্যাট নেই ফাইল-ফটো



মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) অবদান রাখা ৫০ শতাংশ পণ্য ও সেবায় ভ্যাট নেই। ফলে কর–জিডিপি অনুপাত সন্তোষজনক পর্যায়ে উন্নীত করা সম্ভব হচ্ছে না। গতকাল রোববার রাজস্ব সম্মেলনের ভ্যাটসংক্রান্ত অধিবেশনের মূল প্রবন্ধে এসব কথা বলা হয়। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভ্যাট কমিশনার সৈয়দ মুসফিকুর রহমান।

আগারগাঁওয়ের বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আগারগাঁওয়ে নতুন রাজস্ব ভবন গতকাল উদ্বোধন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে এই রাজস্ব সম্মেলনের আয়োজন করেছে এনবিআর।

মূল প্রবন্ধে কোন কোন খাতে ভ্যাট অব্যাহতি আছে, তা–ও বলা হয়। মূল প্রবন্ধ অনুযায়ী, কৃষি, পশুসম্পদ, মৎস্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জনপ্রশাসন, প্রতিরক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষা সেবা খাতে কোনো ভ্যাট নেই। অর্থাৎ জিডিপির ১৪ দশমিক ৬ শতাংশ অবদান রাখে, এমন খাতগুলোর ওপর ভ্যাট আরোপ হয় না। জিডিপিতে উৎপাদন খাতের অবদান প্রায় ২৩ শতাংশ। সেখানেও প্রায় অর্ধেক খাতের ওপর ভ্যাট নেই। যেমন রেফ্রিজারেটর, ফ্রিজার, এয়ারকন্ডিশনার, লিফট, মোটরগাড়ি, মোবাইল ফোন, গৃহস্থালি সামগ্রী উৎপাদক প্রতিষ্ঠানের আমদানি ও উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা আছে। এ ছাড়া এনবিআরের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রায় ৫০০ পণ্যকে ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা দেওয়া হয়েছে। ৫০ ধরনের সেবায়ও ভ্যাট নেই।

এসব পণ্য ও সেবার ওপর যৌক্তিকভাবে ক্রমান্বয়ে ভ্যাট অব্যাহতি তুলে দেওয়া হলে কর–জিডিপির অনুপাত উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করে ভ্যাট বিভাগ। তাই কর অব্যাহতি সুবিধা নিয়ে পর্যালোচনার তাগিদ দেওয়া হয়েছে অধিবেশনে।

সৈয়দ মুসফিকুর রহমান বলেন, করের টাকা সরকার ভর্তুকি দিচ্ছে। সামাজিক সুরক্ষার টাকাও করের টাকা। কর অব্যাহতি কমিয়ে দেওয়া হলে এসব খাতে আরও বেশি খরচ করা যেত।

শুল্ক–কর অব্যাহতির বিষয়টি সাম্প্রতিক সময়ে বেশ আলোচনায় রয়েছে। কারণ, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ৪৭০ কোটি ডলার ঋণ দেওয়ার অংশ হিসেবে রাজস্ব খাত সংস্কারের কথা বলেছে। সেখানে শুল্ক–কর অব্যাহতি কমানোর শর্ত দিয়েছে সংস্থাটি।

ভ্যাট নিয়ে আয়োজিত অধিবেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। এতে সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম।

‘লেনদেনে’ চার কোটি টাকার ভ্যাটের রফা

অনুষ্ঠানে বিশেষ বক্তা ছিলেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী। তিনি তাঁর বক্তব্যে শুল্ক–কর কর্মকর্তাদের অনৈতিক লেনদেনের উদাহরণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কিছুদিন আগে জেলা শহরের এক ব্যবসায়ীর চার কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি ধরা পড়ে। পরে কর কর্মকর্তাদের সঙ্গে ‘লেনদেন’ করে পুরো বিষয়টির সুরাহা করেন। সরকারকে ওই চার কোটি টাকার এক টাকাও দিতে হয়নি। তিনি ব্যবসায়ীদের হয়রানি বন্ধের দাবি জানান।

আরেক বিশেষ বক্তা ছিলেন স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাসের এজাজ বিজয়। তিনি বলেন, ফরেন চেম্বারের সদস্যসংখ্যা ২১৫। এই বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো দেশের মোট করের ৩০ শতাংশ দেয়। এতে বোঝা যায়, এ দেশের ব্যবসায়প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা নন–কমপ্লায়েন্ট। এটা দূর করতে হবে।

এনবিআরের সাবেক সদস্য সৈয়দ গোলাম কিবরিয়া বলেন, কর অব্যাহতি অনাদিকালের জন্য দেওয়া ঠিক নয়। ব্যবসায়ীদের পানিতে ফেলে দেবেন। তাঁরা সাঁতার শিখে যাবেন। অনেক কর অব্যাহতি সুবিধা আছে, যা তিন–চার বছরের বেশি থাকা উচিত নয়।

২০২৬ সালের পর চাপ আসবে

২০২৬ সালের পর রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির চাপ আসবে বলে মনে করেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। তিনি বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বের হলে শুল্ক আদায় কমে যাবে। তখন থেকেই সমস্যা শুরু হবে। তাই আয়করসহ প্রত্যক্ষ করের জাল বাড়াতে হবে। বেশি লোককে করের আওতায় আনতে হবে।

ভ্যাটের মামলা–মোকদ্দমায় যথাসময়ে সঠিক কাগজপত্র সরবরাহের তাগিদ দেন অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি অ্যাটর্নি জেনারেল আবু মো. আমিন উদ্দিন। তিনি বলেন, কিছুদিন আগে মোবাইল ফোন কোম্পানি আদালতে গিয়ে জানায়, তারা যার কাছ থেকে তরঙ্গ কেনে, ওই সংস্থা ভ্যাট অব্যাহতিপ্রাপ্ত। তাই ওই সংস্থা মোবাইল ফোন কোম্পানিকে ভ্যাটের চালান দিতে পারে না। তাহলে কেন তারা (মোবাইল অপারেটর কোম্পানি) ভ্যাট দেবে, বিষয়গুলো এনবিআরকে সুরাহা করতে হবে।

ইলেকট্রনিক ফিসকেল ডিভাইস (ইএফডি) পুরোপুরি চালু না হওয়ায় খুচরা পর্যায়ে ভ্যাট আদায়ে স্বচ্ছতা আনা যাচ্ছে না বলে জানান এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম। শিগগিরই ব্যাপক হারে ইএফডি মেশিন বসানো শুরু হবে বলে তিনি জানান।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন এনবিআর সদস্য মইনুল খান, জাকিয়া সুলতানা, মান্নান শিকদার, এস এম শহীদুল ইসলাম, কমিশনার শওকত আলী সাদী প্রমুখ। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে গতকাল দুই দিনব্যাপী রাজস্বসংক্রান্ত প্রদর্শনী শুরু হয়েছে।


আরও পড়ুন: